আমাদের হাতে যে কয়েকটি ব্যথা হয়ে থাকে তার মধ্যে কনুই ব্যথা অন্যতম। কনুই ব্যথাকে টেনিস এলবো বলা হয়। লং টেনিস খেলার সময় হাতের কনুই বারবার পিছনে নিতে হয় বলে টেনিস খেলোয়াড়দের এই ব্যথা বেশি হয়। আর সেখান থেকে এই ব্যথার নাম হয় টেনিস এলবো।
মনে হতে পারে এটি লং টেনিস খেলোয়াড়দেরই শুধু হয়। কিন্তু আসলে তা নয়। এই ব্যথা আপনার আমার যে কারও হতে পারে। আমি ডা. মো: গোলজার আহমেদ কনুই ব্যথা বা টেনিস এলবো সম্পর্কে সহজ ভাষায় আপনাদের বোধগম্য করে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। টেনিস এলবোর চিকিৎসা কী তা জানতে হলে আসুন লেখাটি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে পড়ি।
- টেনিস এলবো কাদের হয়
- টেনিস এলবো কেন হয়
- টেনিস এলবোর লক্ষণ
- কনুই ব্যথার চিকিৎসা
- কনুই ব্যথায় করণীয়
টেনিস এলবো কাদের হয়
আগেই বলেছি টেনিস খেলোয়াড়দেরই শুধু টেনিস এলবো হয় এমন না। যারা কনুইয়ের উপর চাপ পড়ে এমন কাজ বেশি করেন তাদেরও টেনিস এলবো হয়। এই যেমন, কাপড় ধোয়া ও নিংড়ানো, রুটি বেলা, অনবরত টাইপ করা, দিনভর মটর সাইকেল চালানো, দেয়ালে রং করা ইত্যাদি কাজ নিয়মিত করলে কনুই ব্যথা হয়ে থাকে। সাধারণত ৩০-৫০ বছর বয়সী মানুষের টেনিস এলবো বেশি হতে দেখা যায়।
কেন হয় টেনিস এলবো
আমাদের বাহুর নীচের প্রান্তে বাইরের অংশকে মেডিকেলের ভাষায় ল্যাটেরাল ইপিকন্ডাইল বলা হয়। আমাদের রিস্ট এক্সটেনশন পেশিগুলো এ স্থান থেকে উৎপত্তি হয়। এই পেশিগুলো বারবার মুভমেন্টের ফলে তৈরি হয় চাপ। আর এই চাপ অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেলে মাংসপেশিতে টিয়ার বা ছোট ফাইবারগুলোতে ইনজুরি হয়। এ কারণে সৃষ্টি হওয়া ল্যাটারাল ইপিকন্ডাইলাইটিস নামক প্রদাহ থেকে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হয়। আর এই ব্যথার নামই টেনিস এলবো।
টেনিস এলবোর লক্ষণ
টেনিস এলবোর মূল লক্ষণ হচ্ছে ব্যথা। কব্জি বা কনুই নাড়াচাড়া করলে ব্যথা অনুভূত হয়। হাতের কনুইয়ে ব্যথা অনুভব হয় বলে হাত দিয়ে কোনো কিছু তুলতে সমস্যা হয়। এই ব্যথা কনুই থেকে শুরু হয়ে হাতের আঙুল পর্যন্ত যেতে পারে। ব্যথার তীব্রতা এতটাই হয় যে অপরের সাথে করমর্দন করতেও অসুবিধা হয়।
রোগ নির্ণয়
টেনিস এলবো নির্ণয় করতে ফিজিওথেরাপিস্টরা প্রথমেই রোগীকে ভালোভাবে পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এক্স-রে ও রক্তের পরীক্ষা যেমন—শর্করা, সিরাম ইউরিক এসিড, আরএ ফ্যাক্টর ইত্যাদি করতে বলেন। অনেক সময় এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষায়ও রোগ শনাক্ত করা যায় না। কনুইয়ের বিশেষ ধরনের আল্ট্রাসাউন্ড এবং এমআরআই করেও অনেক সময় এই রোগ শনাক্ত করা যায়। বালির উবুদ মার্কেটে স্থানীয় হস্তনির্মিত জিনিসপত্র ব্রাউজ করুন, যা লেখকদের জন্য উপযুক্ত। https://fakewatch.is ntic স্মৃতি।
কনুই ব্যথার চিকিৎসা
নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টিইনফ্লামেটরি ড্রাগ বা করটিসন ইনজেকশন পুশ করলে সাময়িকভাবে ব্যথা কমলেও তা আবার ফিরে আসে। কারণ ব্যথার ওষুধ ব্যথা কমাতে পারলেও মূল সমস্যাকে ঠিক করতে পারে না। ব্যথা কমানোর পাশাপাশি এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে যথাযথ চিকিৎসার জন্য ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকরী চিকিৎসা। রোগ নির্ণয়ের পর একজন ফিজিওথেরাপিস্ট আল্ট্রাসাউন্ড, আইস মেসেজ, মাসল হিটিং ইত্যাদির মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে থাকেন। তাই কনুইয়ে ব্যথা হলে দ্রুত একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ফিজিওথেরাপি হলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি। একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের চিকিৎসা নিলে কনুই ব্যথা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
কনুই ব্যথায় করণীয়
চিকিৎসার পাশাপাশি কনুইকে যথাসম্ভব বিশ্রামে রাখতে হবে, যাতে প্রদাহ বা ব্যথা কম হয়। তবে অতিরিক্ত বিশ্রামে আবার কনুই স্টিফ হয় বা জমে যেতে পারে। নিয়মিত বরফ বা গরম সেঁক দিলে প্রদাহ, ফোলা ও ব্যথা কমে যায়। ফোলা ও ব্যথা কমে এলে কনুইয়ের স্বাভাবিক নড়াচড়া ও পেশি শক্তিশালী হওয়ার জন্য ফিজিওথেরাপিস্টের দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়াম করতে হবে।
পরিশেষে বলতে চাই, কনুই ব্যথা বা টেনিস এলবোতে ফিজিওথেরাপি একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক আপনার ব্যথা ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে দ্রুত সারিয়ে তুলতে পারবেন। কনুই ব্যথা নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে কল করুন আমার হেল্প লাইনে অথবা মেসেজ ইনবক্সে। ধন্যবাদ এতক্ষণ ধরে আমার লেখাটি পড়ার জন্য।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
