You are currently viewing কাঁধের ব্যথা বা ফ্রোজেন শোল্ডার থেকে মুক্তির উপায়
কাঁধের ব্যথা আমাদের হাতের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম ব্যাহত করে। সাথে ব্যথা ও অস্বস্তি তো থাকেই। আর সময় মত চিকিৎসা না করালে হতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি।

কাঁধের ব্যথা বা ফ্রোজেন শোল্ডার থেকে মুক্তির উপায়

কাঁধ আমাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি জয়েন্ট। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে হাজারে অন্তত ১৫ জন মানুষ কাঁধে ব্যথায় ভোগেন। কাঁধের ব্যথা ইংরেজিতে ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ হিসাবে পরিচিত। ডাক্তারি ভাষায় একে অ্যাডহেসিভ ‘ক্যাপস্যুলাইটিস’ বলা হয়।

ফ্রোজেন শোল্ডার মানে কাঁধের কব্জাটি জমে আড়ষ্ট (FROZEN) হয়ে যাওয়া। কাঁধে ব্যথা হলে আমাদের হাতের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম ব্যাহত হয়। সাথে ব্যথা ও অস্বস্তি তো থাকেই। আর সময় মত চিকিৎসা না করালে হতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি। আমি ডা. মো: গোলজার আহমেদ কাঁধে ব্যথা বা ফ্রোজেন শোল্ডার থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। আসুন লেখাটি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে পড়ি।

  • ফ্রোজেন শোল্ডারের লক্ষণ ও উপসর্গ
  • ফ্রোজেন শোল্ডারের কারণ
  • ফ্রোজেন শোল্ডার নির্ণয়
  • ফ্রোজেন শোল্ডারের চিকিৎসা

ফ্রোজেন শোল্ডারের লক্ষণ ও উপসর্গ

ফ্রোজেন শোল্ডারের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো ধীরে ধীরে ৩টি ধাপে প্রকাশ পায়। প্রতিটি ধাপ প্রকাশ পেতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগে।
১. আড়ষ্টতা: যেকোনো নাড়াচাড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং হাত তোলা বা সামনে পিছনে নেওয়ার সীমা ছোট হয়ে আসে। ধীরে ধীরে ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং ব্যথা ঘাড়ে, পিঠে, কনুই-এর দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
২. জমে যাওয়া: এই ধাপে এসে ব্যথা কিছুটা কমে গেলেও কাঁধের জড়তা বেড়ে মোটামুটি শক্ত হয়ে যায়। এছাড়াও কাঁধের ব্যবহার আগের চেয়েও কঠিন হয়ে পড়ে।
৩. গলে যাওয়া: কাঁধ কিছুটা স্বাভাবিক হয় এই ধাপে। কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে রাতে ব্যথা বাড়ে এবং ঘুমের সমস্যা তৈরি করে।

কাঁধের ব্যথা হওয়ার কারণ

কাঁধে ব্যথা বা ফ্রোজেন শোল্ডারের কারণ জানতে হলে প্রথমেই আপনাকে কাঁধের জয়েন্টের অ্যানাটমিক্যাল গঠন সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। কাঁধের জয়েন্টে আমাদের হাতের হাড় (হিউমেরাস), লিগামেন্ট, টেন্ডন একটি ক্যাপস্যুলের মতো স্থান তৈরি করে যা কানেক্টিভ টিস্যু বা যোজক কলার মাধ্যমে বাধা থাকে। যখন এই ক্যাপস্যুলটি পুরু ও শক্ত হয়ে ওঠে তখন হাত ও কাঁধ নাড়াচাড়া করা দুষ্কর হয়ে ওঠে।

অনেক সময় কার কেন ক্যাপস্যুলটি শক্ত হয়ে যায় তা বলা মুশকিল হয়ে পড়ে। তবে যারা ডায়বেটিসে আক্রান্ত অথবা সাম্প্রতিক কালে কোনো সার্জারি বা হাত ভাঙার কারণে অনেক দিনের জন্য কাঁধ নাড়াচাড়া করতে পারেননি তাদের ক্ষেত্রে ফ্রোজেন শোল্ডার হতে দেখা যায়।

কাঁধের ব্যথা নির্ণয়

চিকিৎসকগণ রোগ নির্ণয়ের জন্য আপনার কাঁধ কয়েকভাবে নাড়াতে বলবেন এবং নিজেও নাড়িয়ে দেখবেন। এর মাধ্যমে তিনি আপনার ব্যথা ও জড়তার পরিমাণ পরিমাপ করেন। আপনি নিজে নাড়ালে তাকে অ্যাক্টিভ রেঞ্জ অব মোশন আর ডাক্তার নাড়িয়ে দিলে তাকে প্যাসিভ রেঞ্জ অব মোশন বলা হয়। ফ্রোজেন শোল্ডার হলে অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ দুই ধরণের রেঞ্জ অব মোশনই ব্যাহত হয়।

অনেক সময় ডাক্তার কাঁধের রেঞ্জ অব মোশন বোঝার জন্য কাঁধে চেতনা নাশক ওষুধ ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করতে পারেন।

ফ্রোজেন শোল্ডার সাধারণত লক্ষণ ও উপসর্গ দেখেই বোঝা যায়। তবুও সুনিশ্চিত ভাবে রোগ নির্ণয়ের জন্য আপনার চিকিৎসক এক্সরে (X-rays) বা এমআরআই (MRI) করতে দিতে পারেন।

কাঁধের ব্যথা হলে চিকিৎসা কী

প্রাথমিক চিকিৎসায় সাধারণ ব্যথানাশক বিভিন্ন ওষুধ যেমন অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন দেওয়া হয় যেন ব্যথা ও প্রদাহ লাঘব হয়। ব্যায়ামই এই রোগের প্রধান চিকিৎসা। তবে নিজের ইচ্ছামত ব্যায়াম নয়। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকগণ আটকে যাওয়া কাঁধের নড়াচড়া বাড়ানো হয় ও কাঁধের পেশী জোরদার করার জন্য থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ (ব্যায়াম চিকিৎসা) প্রদান করে থাকেন। ফ্রোজেন শোল্ডার চিকিৎসার প্রধান উদ্দেশ্য থাকে ব্যথা কমানো এবং রেঞ্জ অব মোশন বৃদ্ধি করা। অধিকাংশ সময় সঠিক ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে অপারেশনের প্রয়োজনীয়তাও লাঘব করা সম্ভব। তাই কাঁধে ব্যথা হলে প্রথমেই একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

প্রিয় পাঠক, আমি আশা করি এই লেখার মাধ্যমে কাঁধের ব্যথা বা ফ্রোজেন শোল্ডার সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিষ্কার হয়েছে। কাঁধে ব্যথাসহ যেকোনো ব্যথা নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে কল করুন আমার হেল্প লাইনে অথবা মেসেজ ইনবক্সে।। ধন্যবাদ শেষ পর্যন্ত লেখাটি পড়ার জন্য। আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

article-footer

Leave a Reply