You are currently viewing পেশিতে টান: খেলতে গিয়ে মাংসপেশিতে টান লাগলে
অনেক সময় খেলতে গিয়ে মাংসপেশি তার ছন্দ হারিয়ে ফেলে। ফলে সংকোচনের পর আর প্রসারিত হতে পারে না। এই অবস্থাকে পেশিতে টান লাগা বলা হয়।

পেশিতে টান: খেলতে গিয়ে মাংসপেশিতে টান লাগলে

আমাদের মাংসপেশিগুলো মাসল ফাইবার দিয়ে তৈরি। এই ফাইবারগুলোর সংকোচন প্রসারণের ফলেই আমরা হাঁটা-চলা করতে পারি। খেলাধুলা যারা করেন তাদের এই সংকোচন প্রসারণ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয়। তবে তা নির্দিষ্ট ছন্দে হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক সময় খেলতে গিয়ে মাংসপেশি তার ছন্দ হারিয়ে ফেলে। ফলে সংকোচনের পর আর প্রসারিত হতে পারে না। এই অবস্থাকে পেশিতে টান লাগা বলা হয়।

শুধু খেলার সময় নয়, ঘুমের মধ্যেও ভুল ভাবে শোয়ার কারণেও অনেকের পেশিতে টান লাগতে দেয়া যায়। প্রচণ্ড ব্যথা আর জ্বালাপোড়া তৈরি করে পেশিতে টান লাগলে। এর অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে তারাই এর কষ্ট সম্পর্কে বলতে পারেন। আমি ডা. মো: গোলজার আহমেদ, এই লেখায় পেশিতে টান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে যাচ্ছি। আসুন লেখাটি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে পড়ি।

  • পেশিতে টান লাগার কারণ
  • পেশিতে টান লাগার উপসর্গ
  • পেশিতে টান লাগার জটিলতা
  • পেশিতে টান লাগা নির্ণয়
  • পেশিতে টান লাগার চিকিৎসা

পেশিতে টান লাগার কারণ

খেলার সময় আমাদের শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করে। এই কাজের জন্য শরীরকে প্রচুর শক্তি ব্যয় করতে হয়। শক্তি ব্যয়ের ফলে শরীর থেকে পানি ও খনিজ লবণসহ বিভিন্ন উপাদান বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর হয়ে পড়ে পানিশূন্য। ফলে গতিশীল মাংসপেশি হঠাৎ করে সংকুচিত হয়ে থমকে যায়। যা একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী কিছু বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো।

• কোন মাংসপেশিকে দীর্ঘক্ষণ ধরে ব্যবহার করলে।
• খেলার আগে ওয়ার্মআপ না করা হলে।
• খেলার সময় সামর্থ্যের চেয়ে বেশি গতিতে ছোটাছুটি করলে।
• শারীরিক ক্লান্তি নিয়ে খেলায় নামলে।
• খেলা বা ব্যায়ামের আগে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে।
• মাংসপেশিতে অতিরিক্ত টানা খেলে।
• মাসল টিস্যু ছিঁড়ে গেলে।
• দেহে ভিটামিন ও মিনারেল যেমন এ, বি, ই-১, ই-৫ ও ই-৬ আয়রন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ও ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে।

এছাড়াও ধূমপায়ীদের পায়ে রক্ত চলাচল কম হয় বলে তুলনামূলক ভাবে বেশি পেশি টানের শিকার হন। আর গর্ভাবস্থায় শারীরিক বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণেও পেশিতে টান লেগে থাকে। আর যাদের হাইপোথাইরয়েডিজম, কিডনি ফেইলিওরের মত রোগ রয়েছে তাদেরও পেশীতে টান লাগতে দেখা যায়।

উপসর্গ

সাধারণত হঠাৎ করেই মাংসপেশিতে টান লাগে। তারপরও কিছু উপসর্গ দেখা যায় পেশিতে টান লাগার আগে। এগুলো হচ্ছে-

• পেশি হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা হওয়া।
• পেশি ঠাণ্ডা বা শীতল হয়ে আসা।
• আক্রান্ত পেশির উপরাংশে লালচে হয়ে যাওয়া।
• পেশির দুর্বলতা বোধ করা।
• ওজন নিতে বা যেকোনো মুভমেন্টে পেশিতে আড়ষ্টভাব অনুভূত হওয়া।
• পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

পেশিতে টান লাগার জটিলতা

• মাংসপেশিতে টান লাগার ফলে তীব্র ব্যথা হয়। এজন্য খেলোয়াড়দের খেলার মাঠ থেকে উঠে আসতে হয়।
• ব্যথা অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেলে সেদিন আর মাঠে ফিরতে পারেন না খেলোয়াড়।
• ব্যথা কয়েক দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। ফলে নিয়মিত অনুশীলন থেকেও দূরে থাকতে হয় খেলোয়াড়কে।
• গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মাংসপেশিতে টান লাগলে দল থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
• এছাড়াও স্বাভাবিক হাঁটা-চলা ব্যাহত হয়।

সমস্যা নির্ণয়

সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির বর্ণনা বা খালি চোখে দেখলেই অবস্থা বোঝা যায়। সাধারণত আহত পেশি ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি উপরিভাগ ফুলে এর রঙ লালচে রূপ ধারণ করে। পাশাপাশি পেশির অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ রেঞ্জ অব মোশন দেখা হয়। তবে মাসল ফাইবার ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনুমান করলে চিকিৎসকগণ মাস্কুলোস্কেলিটাল আল্ট্রাসনোগ্রাফি এবং সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে তা নির্ণয় করে থাকেন। ভিনটেজ আবিষ্কারের খোঁজে এবং http://fakewatch.is ব্রুকলিনের ফ্লি মার্কেটে অদ্ভুত ধন।

চিকিৎসা

খেলার মাঠে পেশিতে টান লাগলে অবস্থা অনুযায়ী স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্ট খেলোয়াড়কে অ্যানেস্থেটিক ক্রিম, জেল বা স্প্রে দিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন। যদি এতে কাজ হয় তাহলে খেলোয়াড় আবার খেলায় ফিরে যেতে পারেন। কিন্তু এর সবচেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা হচ্ছে প্রাইস (PRICE) থেরাপি। এই চিকিৎসা টান খাওয়ার প্রথম কয়েকদিন ধরে দেওয়া হয়। এটি ৫টি ধাপের একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। প্রতিটি ধাপের ইংরেজি অদ্যাক্ষর মিলে PRICE হয়েছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক কী এই PRICE Therapy.

Protection বা নিরাপত্তা: যেহেতু পেশিটি আহত অবস্থায় রয়েছে তাই নিরাপত্তা প্রদান না করলে এটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ক্র্যাচ, নি ক্যাপ, থাই ক্যাপ, ও ক্র্যাপ ব্যান্ডেজের মাধ্যমে পেশীকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়।

Rest বা বিশ্রাম: এসময় সব ধরনের খেলাধুলা, অনুশীলন, বা ব্যায়াম বন্ধ রাখতে হয়।
Ice বা বরফ: যে খানে টান লেগেছে সেখানে ২/৩ ঘণ্টা পরপর ২০ মিনিট করে বরফের ব্যাগ দিয়ে ঠাণ্ডা লাগাতে হয়।

Compression বা সংকোচন: টান লাগা পেশির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণে ক্রেপ ব্যান্ডেজ দিয়ে জায়গাটিকে মুড়িয়ে দেওয়া হয়।

Elevate বা উঁচু করা: যে পায়ে টান লেগেছে সেই পা বালিশের উপর রেখে উঁচু করে শুয়ে থাকতে হয়।
এছাড়াও স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্ট খেলোয়াড়ের মাসল স্ট্রেচিং সহ কিছু ইলেক্ট্রোথেরাপি দিতে পারেন। এর পাশাপাশি যথাযথ পরিমাণ তরল পানীয় যেমন স্যুপ, ফলের রস, ডাবের পানি এবং ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার যেমন দুধ, কলিজা, ডিম, সবুজ শাক-সবজি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রয়োজন বোধ করলে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টও প্রেসক্রাইব করেন তারা।

প্রিয় পাঠক, আশা করি এই লেখার মাধ্যমে মাংসপেশিতে টান লাগা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিতে পেরেছি। পেশিতে টান লাগা নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে কল করুন আমার হেল্প লাইনে অথবা মেসেজ ইনবক্সে। ধন্যবাদ শেষ পর্যন্ত লেখাটি পড়ার জন্য। আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

article-footer

Leave a Reply