বাংলায় যা বাত নামে পরিচিত তাকে ইংরেজিতে বলে আর্থ্রাইটিস। বাত হলে এক বা একাধিক জয়েন্ট ফুলে গিয়ে ব্যথা হয়। বাতব্যথার মূল উপসর্গ হলো জয়েন্টে ব্যথা ও জয়েন্ট নাড়াচাড়ায় অসুবিধা, যা বয়সের সাথে সাথে বেড়ে যায়। সবচেয়ে পরিচিত বাতব্যথা হলো অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস। কার্টিলেজ ভেঙ্গে বা ক্ষয় হয়ে অস্টিওআর্থ্রাইটিস সৃষ্টি হয়। আর রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের পেছনে রয়েছে জয়েন্টে ইমিউনো সিস্টেমের আক্রমণ।
রক্তে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিক এসিড এর উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট ইউরিক এসিড ক্রিস্টালের কারণে গেঁটে বাত (Gout) হতে পারে। এছাড়া, সোরিয়াসিস বা লুপাসের মত ইনফেকশন বা আন্ডারলাইং ডিজিজের কারণে অন্যান্য ধরণের আর্থ্রাইটিস হতে পারে।
আর্থ্রাইটিস বা বাতব্যথার ধরণের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা করা হয়। আর চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য থাকে উপসর্গগুলো কমিয়ে রোগীর জীবনযাপনকে স্বাভাবিক করা। আমি ডা. মো: গোলজার আহমেদ বাতব্যথা বা আর্থ্রাইটিস থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। আসুন লেখাটি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে পড়ি।
- বাতব্যথার প্রকারভেদ
- বাতব্যথার কারণ
- বাতব্যথার জটিলতা
- বাতব্যথার চিকিৎসা
বাত ব্যথার প্রকারভেদ
১. এনকাইলোজিং স্পন্ডালাইটিস
২. গেঁটে বাত
৩. অজানা কারণে শিশুদের বাত
৪. অস্টিওআর্থ্রাইটিস
৫. সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস
৬. রিঅ্যাকটিভ আর্থ্রাইটিস
৭. রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস
৮. স্পাস্টিক আর্থ্রাইটিস
৯. থাম্ব আর্থ্রাইটিস
বাত ব্যথার উপসর্গ
বাত ব্যথার লক্ষণ ও উপসর্গগুলো সাধারণত জয়েন্টেই দেখা দেয়। বাতের ধরণ অনুযায়ী নিন্মোক্ত উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে:
• ব্যথা
• জড়তা
• ফোলা
• লাল হওয়া
• রেঞ্জ অব মোশন কমে যাওয়া
বাতব্যথা এর কারণ
সাধারণত ৪০-৫০ বছর বয়সী পুরুষের বাতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আর নারীদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার পর অর্থাৎ ৪৫ বছর পর দেখা দিতে পারে। শিশু ও তরুণ বয়সীদের বাতে আক্রান্ত হতে দেখা যায় না সাধারণত। বাতে আক্রান্ত হওয়ার জন্য নিন্মোক্ত কারণগুলো মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
• পারিবারিক
• ডায়াবেটিস
• স্থূলতা
• কিডনি রোগ
• সিকল সেল এনিমিয়া
• অ্যালকোহল সেবন
• বিভিন্ন ওষুধ যেমন, অ্যাসপিরিন, ডাই-ইউরেটিকস, লিভোডোপা, সাইক্লোস্পোরিন ইত্যাদি।
বাতব্যথার জটিলতা
বাতের পরিস্থিতি গুরুতর পর্যায়ে চলে গেলে দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে সমস্যা তৈরি করবে। ওজনবাহী জয়েন্টগুলো বাতে আক্রান্ত হলে হাঁটা-চলা ও ওঠা-বসা করতে অনেক সমস্যা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে জয়েন্টের আকার আকৃতি পরিবর্তন হয়ে যায়।
বাতব্যথা নির্ণয়
প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য ডাক্তার আপনার জয়েন্ট ফুলে গেছে কি না, জয়েন্টের রং পরিবর্তন হয়েছে কি না কিংবা জয়েন্টের তাপমাত্রা কেমন তা বোঝার চেষ্টা করবেন। আপনি ঠিক কতটা স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলা বা নড়াচড়া করতে পারেন তাও দেখবেন ডাক্তার। এরপর আপনার ঠিক কোন প্রকারের আর্থ্রাইটিস হয়েছে তার নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা দিতে পারেন। রক্ত পরীক্ষা ছাড়াও মূত্র ও জয়েন্ট ফ্লুইড পরীক্ষার জন্যও বলতে পারেন আপনার চিকিৎসক। জয়েন্ট ফ্লুইড নেওয়ার জন্য জয়েন্টে সিরিঞ্জ ঢোকানো হয়।
ল্যাবরেটরি টেস্টের পাশাপাশি এক্সরে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও আল্ট্রাসনোগ্রাফিরও প্রয়োজন পড়ে অনেক ক্ষেত্রে।
বাতের চিকিৎসা
ব্যথানাশক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক। তাই ব্যথা হলেই ওষুধ খাওয়ার প্রচলন থেকে বেরিয়ে এসেছে আধুনিক বিশ্ব। বাত ব্যথা নিরাময়ে ফিজিওথেরাপি সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত একটি চিকিৎসা। তবে এই চিকিৎসার ব্যাপক চাহিদার কারণে দিন দিন তা ব্যবসায় রূপ নিচ্ছে। তাই চিকিৎসা নেওয়ার পূর্বে যিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন তিনি গ্রাজুয়েট ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক কি না তা যাচাই করে নিন।
সুপ্রিয় পাঠক, আশা করি এই লেখার মাধ্যমে বাত ব্যথা বা আর্থ্রাইটিস সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিষ্কার করতে পেরেছি। বাত ব্যথাসহ যেকোনো ব্যথা নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে কল করুন আমার হেল্প লাইনে অথবা মেসেজ ইনবক্সে। ধন্যবাদ শেষ পর্যন্ত লেখাটি পড়ার জন্য। আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
