You are currently viewing হাঁটু ব্যথা কেন হয়, কী এর চিকিৎসা
হাঁটু ব্যথা খুব পরিচিত একটি সমস্যা। এই ব্যথা অল্প কয়েকদিনের ঘরোয়া চিকিৎসায়ও ভালো হতে পারে। আবার অনেক সময় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাও লাগতে পারে।

হাঁটু ব্যথা কেন হয়, কী এর চিকিৎসা

হাঁটু ব্যথা খুব পরিচিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। তবে গুরুতর কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়। এর অনেক কারণ থাকতে পারে। ব্যথা হতে পারে পেশি কিংবা লিগামেন্টের কোনো সমস্যা, অথবা কোনো ধরণের আর্থ্রাইটিস এর কারণে। হাঁটু ব্যথা অল্প কয়েকদিনের ঘরোয়া চিকিৎসায়ও ভালো হতে পারে। আবার অনেক সময় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাও লাগতে পারে।

আমি ডা. মো: গোলজার আহমেদ, পিটি আজ আপনাদের জানাবো হাঁটু ব্যথার কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে। লেখাটি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে পড়ার বিনীত অনুরোধ করছি। চলুন শুরু করা যাক।

  • হাঁটুর গঠন
  • হাঁটু ব্যথা কেন করে
  • হাঁটু ব্যথার চিকিৎসা

হাঁটুর গঠন

হাঁটু ব্যথা সম্পর্কে পুরো ধারণা পেতে প্রথমেই আমাদের জানতে হবে হাঁটুর গঠন সম্পর্কে। হাঁটু মূলত হাড়, লিগামেন্ট, কার্টিলেজ ও টেন্ডনের একটি জটিল সমন্বয়। হাঁটুতে ৩টি হাড় যথা: ফিমার, টিবিয়া এবং প্যাটেলা এসে যুক্ত হয়েছে। ফিমার হচ্ছে আমাদের উরুর মধ্যে যে হাড়টি রয়েছে সেটি। এই হাড়টি দেহের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী হাড়। টিবিয়া হচ্ছে পায়ে অবস্থিত ২টি হাড় যথা: টিবিয়া ও ফিবুলার একটি। টিবিয়া ফিবুলার চেয়ে মোটা ও দৃঢ়। আর প্যাটেলা হচ্ছে হাঁটুর যে গোল হাড়টি আমরা হাত দিয়ে ধরতে ও নাড়াতে পারি।

এরপর আসা যাক লিগামেন্টের বিবরণে। হাঁটুতে আসা হাড়গুলোকে বেধে রাখার কাজটি করে এই লিগামেন্টগুলো। এখানে মোট ৪ টি লিগামেন্ট হাড়গুলোকে জড়িয়ে রাখে। প্রথম ২টি হলো- কোল্যাটেরাল লিগামেন্ট, যা হাঁটুর দু’পাশে অবস্থান করে। একটা থাকে হাঁটুর ভিতরের পাশে, আরেকটা থাকে বাইরের পাশে। এর কাজ হলো হাঁটুর পাশাপাশি নড়াচড়াকে নিয়ন্ত্রণ করা। এরপর রয়েছে ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট- যা আমাদের হাঁটুর মধ্যে অবস্থান করে। তারা একে অপরের উপর দিয়ে এমন ভাবে ক্রস করে যে দেখতে ইংরেজি বর্ণ X এর মত দেখায়। এদের কাজ হলো হাঁটুর সামনে ও পিছনের নড়াচড়াকে নিয়ন্ত্রণ করা।

হাঁটুতে ২ ধরণের কার্টিলেজ থাকে. যথা: আর্টিকুলার ও মিনিসকাস। আর্টিকুলার কার্টিলেজ হলো এক ধরণের পিচ্ছিল উপাদান যা হাঁটুর একটি হাড়ের সাথে আরেকটি হাড়ের ঘষা লাগা থেকে রক্ষা করে। এর ফলে খুব সহজেই আমরা হাঁটা-চলা করতে পারি। আর মিনিসকাস হলো কীলকাকারের একটি কুশন যা দুই হাড়ের মধ্যে ফাঁক তৈরি করে এবং হাড় দুটির চাপ সহ্য করে থাকে। এদেরও ২টি ধরণ আছে, মিডিয়াল ও ল্যাটেরাল মিনিসকাস। মিডিয়াল মিনিসকাস থাকে হাঁটুর ভিররের অংশে আর ল্যাটেরাল মিনিসকাস থাকে হাঁটুর বাইরের অংশে।

টেন্ডন হলো হাড়ের সাথে মাংসপেশির সেতুবন্ধনকারী দড়ির মত এক ধরণের উপাদান।

হাঁটু ব্যথা কেন করে

হাঁটু ব্যথার উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

আঘাত: হাঁটুতে আঘাত লেগে এর ভিতরের গঠনে কোনো ক্ষতি সাধন হলে হাঁটু ব্যথা হয়ে থাকে। সাধারণ খেলোয়াড়দের আঘাতের কারণে হাঁটু ব্যথা বেশি হয়ে থাকে।

টেন্ডনের প্রদাহ: টেন্ডনের প্রদাহ থেকে হাঁটু ব্যথা হয়ে থাকে। কোনো আঘাতের কারণে টেন্ডনের প্রদাহ হলে তা ব্যথা সৃষ্টি করে।

ওসগুড-শ্ল্যাটার রোগ: এই রোগে অল্প বয়সীরা বেশি আক্রান্ত হয়। এই রোগ হলে প্যাটেলার ভিতরের দিকে পিণ্ড তৈরি হয়। ফলে হাঁটাচলার সময় ঘষা লেগে হাঁটুর ব্যথা সৃষ্টি হয়।

প্যাটেলোফিমোরাল পেইন সিনড্রোম: অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের হাঁটু ব্যথার খুবই পরিচিত কারণ এটি। যাদের এই সিনড্রোম রয়েছে তাদের প্যাটেলার পেছনে ও চারপাশে ব্যথা হয়ে থাকে। সাধারণত সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, দৌড়ানো, সাইক্লিং কিংবা দীর্ঘক্ষণ পা গুটিয়ে বসে থাকলে হাঁটুতে ব্যথা করে।

আর্থ্রাইটিস: হাঁটুর ব্যথা সময়ের সাথে বাড়তে পারে, হঠাৎ করে হতে পারে, অথবা বাড়া-কমার মধ্যে থাকতে পারে। ব্যথার ধরণ যাই হোক, সাধারণ আর্থ্রাইটিসকে এর জন্য দায়ী করা হয় না। কিন্তু কিছু মানুষের হাঁটু ব্যথার জন্য আর্থ্রাইটিসকে দায়ী হয়ে থাকে। এর মধ্যে অস্টিওআর্থ্রাইটিস উল্লেখযোগ্য। তবে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয় ৫০ বছর বয়সের পর থেকে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে ব্যথা হলে এর সাথে আপনি হাঁটুও নাড়াতে পারবেন না সহজে। আবার এই ব্যথা উভয় হাঁটুতেই হতে পারে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমে যেতে দেখা যায়। আর সকাল বেলা আধাঘণ্টা বা ১ ঘণ্টার মত সময় হাঁটু নাড়ানোও কষ্টকর হয়ে পড়ে। এই ব্যথা হাঁটুর চারপাশে কিংবা যেকোনো পাশে যেমন সামনে বা পাশে অনুভূত হয়ে থাকে। সাধারণত সিঁড়ি বেয়ে ওঠা নামার সময় এই ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করে। ট্রেন্ডি পোশাক কিনুন এবং https://www.fakewatch.is/ মিলানের হাই-ফ্যাশন জেলাগুলিতে আনুষাঙ্গিক।

হাঁটু ব্যথার চিকিৎসা

হাঁটুর ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশ অনেকগুলো পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নিচে আলোচনা করা হলো।
নিয়ন্ত্রিত বিশ্রাম এবং ব্যায়াম: হাঁটুতে ব্যথা শুরু হওয়ার পর প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আপনার পা বিশ্রামে রাখবেন এবং হাঁটা-চলা সীমিত করবেন। তবে জেগে থাকা অবস্থায় প্রতি ১ ঘণ্টা পরপর পা ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড ধরে নাড়াচাড়া করবেন।

৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলে পা স্বাভাবিক নাড়াচাড়ার পাশাপাশি হালকা ভাজ করা ও খোলার ব্যায়াম করতে পারেন। এতে ব্যথা দীর্ঘমেয়াদী হবে না। যে পায়ে ব্যথা নেই সেই পায়ে ভর দিয়ে সিঁড়িতে ওঠতে পারেন। তবে নামার সময় অবশ্যই যে পায়ের হাঁটুতে ব্যথা সে পায়ের উপর ভর দেবেন। এতে ব্যথা সহনীয় মাত্রায় চলে আসবে এবং ধীরে ধীরে ব্যথা চলে যেতে শুরু করবে। আর মনে রাখবেন, ব্যথা না কমা পর্যন্ত ভারি কিছু তোলা যাবে না। সম্ভব হলে সাঁতার কাটার চেষ্টা করবেন।

এরপরও যদি আপনার হাঁটুতে ব্যথা থাকে তাহলে দ্রুত একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের কাছে যাবেন। তিনি ব্যথার উৎস ও কারণ নির্ণয় করে আপনাকে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করবেন। তাঁর প্রেসক্রাইব করা থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, স্ট্রেনদেনিং প্রোগ্রাম এবং ইলেক্ট্রোথেরাপি দ্রুত আপনার হাঁটুর ব্যথা কমিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরার উপযুক্ত করে তুলবে।

সুপ্রিয় পাঠক, আশা করি আমার এই লেখার মাধ্যমে হাঁটু ব্যথা সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা দিতে পেরেছি। আপনাদের যেকোনো জয়েন্টের ব্যথা নিয়ে প্রশ্ন করতে বা পরামর্শ নিতে আমার ফেসবুক পেজের ইনবক্সে যোগাযোগ করতে পারেন। আজ এ পর্যন্তই। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

article-footer

Leave a Reply