You are currently viewing মুখ বেঁকে যাওয়া রোগীর পরিপূর্ণ চিকিৎসা
হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া এমন একটি কন্ডিশন যেখানে মুখমণ্ডলের এক পাশের মাংসপেশি হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই দুর্বলতা সাময়িক।

মুখ বেঁকে যাওয়া রোগীর পরিপূর্ণ চিকিৎসা

হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া এমন একটি কন্ডিশন যেখানে মুখমণ্ডলের এক পাশের মাংসপেশি হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই দুর্বলতা সাময়িক এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণীয়ভাবে উন্নতি লাভ করে। এই পেশি দুর্বলতায় মুখের একপাশ ঝুলে পড়ে। এমনকি হাসিও একগালে হাসতে হয়, এবং অনেক সময় আক্রান্ত পাশের চোখ বন্ধ করতে পারে না রোগী।

এই সমস্যাটির নাম বেলস পালসি। এটি এক ধরণের স্নায়ুগত সমস্যা। আর প্যারালাইসিস বলে পরিচিত হওয়ায় রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে আশার কথা হলো, এটি স্নায়ুগত সমস্যা ঠিকই, তবে তা স্ট্রোক নয়। আমি ডা. মো: গোলজার আহমেদ মুখ বেঁকে যাওয়া সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। আসুন লেখাটি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে পড়ি।

  • যেভাবে মুখ বেঁকে যায়
  • যেসব সমস্যা হয়
  • স্ট্রোকের সঙ্গে পার্থক্য
  • কখন ডাক্তার দেখাবেন
  • রোগ নির্ণয়
  • বেলস পালসির চিকিৎসা
  • বেলস পালসিতে ফিজিওথেরাপি
  • জরুরি পরামর্শ

যেভাবে মুখ বেঁকে যায়

আমাদের মুখের পেশিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ফেশিয়াল নার্ভ নামে মুখমণ্ডলের এক ধরণের স্নায়ু। আমাদের শরীরে মোট ১২ জোড়া করোটিকা স্নায়ু থাকে যার ৭ নম্বর স্নায়ু জোড়ার নাম ফেশিয়াল নার্ভ। সাধারণত হারপিস ভাইরাস সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ইত্যাদি কারণে এই স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মুখের পেশি শক্তি হারায় এবং মুখ বেঁকে যায়। তবে কারণ নির্ণয় না করা গেলে একে বেলস পালসি বলা হয়।

মুখ বেঁকে যাওয়া উপসর্গ

• মুখের এক দিকটা ঝুলে পড়ে
• পেশি নাড়ানো যায় না
• চোখ খুলতে ও বন্ধ করতে সমস্যা হয়
• অনেক সময় চোখ খুলেই থাকে
• খেতে গিয়ে মুখের এক দিক দিয়ে সব পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়
• চেষ্টা করেও কপাল কোঁচকানো যায় না
• কখনো কানের ভেতর বা পেছনে ব্যথা হয়
• কানে বেশি শোনা যায়
• জিবের স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

স্ট্রোকের সঙ্গে পার্থক্য

এ সমস্যায় রোগীর হঠাৎ মুখের এক দিক বাঁকা হয়ে যায়। স্ট্রোকেও মুখ বেঁকে যেতে পারে। তাই বেলস পালসিকে স্ট্রোক হয়েছে বলে ধরে নেয়। তবে স্ট্রোক হলে কথা জড়িয়ে যায়, এক দিকের হাত-পা অবশ হয়ে যায়। যা বেলস পালসির ক্ষেত্রে হয় না। এ সমস্যায় কেবল মুখের এক দিক আক্রান্ত হয়। রোগীর মুখ বাঁকা হয়ে যাওয়ার সঙ্গে এক পাশের চোখের পাপড়ি পুরোপুরি বন্ধ হয় না।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

এ ধরনের রোগ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। সাধারণত তিন মাস সময় লাগে সারতে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যাটা দীর্ঘমেয়াদিও হতে পারে। এমনকি চিরস্থায়ীও হয়ে যেতে পারে। তাই বিন্দুমাত্র অবহেলা না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

এই পোস্ট আমাদের অংশীদারদের দ্বারা স্পনসর করা হয় Wigs

মুখ বেঁকে যাওয়া নির্ণয়

বেলস পালসি নির্ণয় করতে সাধারণত কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীর ইতিহাস শুনে এবং রোগীকে দেখেই রোগটি নির্ণয় করতে পারেন। তবে স্ট্রোক ও মস্তিষ্কের অন্য রোগ থেকে আলাদা করার জন্য মাথার সিটি স্ক্যান অথবা এমআরআই পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

মুখ বেঁকে যাওয়া চিকিৎসা

বেলস পালসি গুরুতর কোনো রোগ নয়, তবে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াটাই উত্তম। বেলস পালসির চিকিৎসাকে তিনটা ভাগে ভাগ করা যায়: ওষুধ, পরামর্শ ও ফিজিওথেরাপি। অ্যান্টিভাইরাল জাতীয় ওষুধ এবং স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বয়সভেদে নির্দিষ্ট মাত্রায় দেয়া হয়। নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে চিকিৎসা নির্ভর করে কত দ্রুত অভিজ্ঞ ও সঠিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন তার ওপর। দেরি করে এলে এ জাতীয় ওষুধের কোনো কার্যকারিতা থাকে না। তাই আকস্মিক সমস্যাটি দেখা দিলে ভয় না পেয়ে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বেলস পালসিতে ফিজিওথেরাপি

শুধু ওষুধে এ রোগ সারে না। পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাও নিতে হয়। যত দ্রুত ফিজিওথেরাপি শুরু করা যায়, ততই সুফল পাওয়া যায়। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকগণ রোগের সঠিক ইতিহাস জেনে এবং শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করার পর প্রয়োজনীয় সঠিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তাই এর চিকিৎসা নির্ভর করে কত দ্রুত অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন তার ওপর। দেরি করে এলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পেতে শুরু করে। একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট প্ল্যান করে থাকেন। তার মধ্যে রয়েছে প্রোপিওসেপ্টিভ নিউরো মাস্কুলার ফ্যাসিলিটেশন, ইনফ্রা রেড রেডিয়েশন (IRR), ইলেকট্রিক্যাল ইস্টিমুলেশন (EMS), অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ ফ্যাসিয়াল মাসল এক্সারসাইজ ইত্যাদি।

জরুরি পরামর্শ

• এ সমস্যায় চোখের যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রোগী কালো চশমা ব্যবহার করতে পারেন
• রাতে ঘুমানোর সময় আক্রান্ত চোখের ওপর রুমাল বা নরম কাপড় দিয়ে রাখতে হবে যাতে কোনোকিছু চোখের মধ্যে না পড়ে।
• ডায়াবেটিসের রোগীরা রক্তের শর্করা সুনিয়ন্ত্রণে রাখবেন
• ঠাণ্ডা আবহাওয়া এবং ঠাণ্ডা খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে
• স্ট্র বা পাইপ দিয়ে পানি খেতে পরামর্শ দেয়া হয়
• মুখের মাংসপেশির শক্তি বাড়াতে চুইংগাম চিবিয়ে ব্যায়াম করতে পারেন।

সুপ্রিয় পাঠক, আশা করি এই লেখার মাধ্যমে মুখ বেঁকে যাওয়ার পরিপূর্ণ চিকিৎসা সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিষ্কার করতে পেরেছি। বেলস পালসিসহ যেকোনো পালসি নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে কল করুন আমার হেল্প লাইনে অথবা মেসেজ ইনবক্সে। ধন্যবাদ এতক্ষণ ধরে আমার লেখাটি পড়ার জন্য। ধন্যবাদ শেষ পর্যন্ত লেখাটি পড়ার জন্য। আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

article-footer

Leave a Reply