You are currently viewing গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হলে করণীয় কী
অনাগত সন্তানের স্বপ্নে বিভোর মানুষটার শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। এসবের মধ্যে গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা উল্লেখযোগ্য।

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হলে করণীয় কী

মাতৃত্ব নারী জীবনের আরাধ্য এক অধ্যায়। নারীর পূর্ণতা তার মাতৃত্বে। অনাগত সন্তানের স্বপ্নে বিভোর মানুষটার শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। এসবের মধ্যে কোমর ব্যথা উল্লেখযোগ্য। গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা গর্ভবতী মায়ের জন্য মারাত্মক কষ্টের বিষয়। সন্তানের একচিলতে হাসির অপেক্ষায় থাকা মায়ের এসব কষ্ট লাঘব করা পরিবারের সবার দায়িত্ব।

গর্ভধারণের তিন মাস পর থেকে শতকরা ৫০ থেকে ৭০ ভাগ প্রসূতি মা কোমর ব্যথায় ভোগেন। আমি ডা. মো: গোলজার আহমেদ, এই লেখায় গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। আসুন লেখাটি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে পড়ি।

  • গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার কারণ
  • গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার ঝুঁকি কাদের বেশি
  • গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার উপসর্গ
  • গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হলে কখন ডাক্তার দেখাবেন
  • গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার চিকিৎসা
  • জরুরি পরামর্শ

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার কারণ

সাধারণত গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা ডিস্ক হারনিয়েশনের মত কোনো প্যাথলজিক্যাল কারণে হয় না। ১২তম পাঁজর থেকে নিতম্বের খাঁজ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ব্যথা হয়ে থাকে। আসুন আরও বিস্তারিত জেনে নিই।

• গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের প্রায় ১২ থেকে ১৮ কেজি ওজন বেড়ে যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের পেশি ও জয়েন্টের উপর চাপ বৃদ্ধি পায়।

• পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রসবের প্রস্তুতি নিতে শরীরে রিলাক্সিন হরমোন নিঃসরণ হয়। রিলাক্সিন হরমোন কোমরের লিগামেন্টগুলো নরম করে ফেলে। ফলে কোমরের পক্ষে বেশি ওজন বহন করার শক্তি থাকে না। তাই স্যাক্রোআইলিয়াক জয়েন্টের উপর চাপ পড়ে কোমর ব্যথা সৃষ্টি হয়।

• আরও একটি কারণে স্যাক্রোআইলিয়াক জয়েন্টের উপর চাপ বেড়ে যায়। তা হলো মায়েরা অবচেতনভাবে সামনের দিকে একটু ঝুঁকে হাঁটাচলা করেন। এর ফলে মায়েদের দেহের ভরকেন্দ্র পরিবর্তিত হয় এবং মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

• রাউন্ডেড লিগামেন্ট নামে পেলভিসে দুটি লিগামেন্ট রয়েছে। এর কাজ হলো জরায়ুকে তার সঠিক অবস্থানে রাখা। গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হওয়ার কারণে এই লিগামেন্টগুলো আকারে বড় এবং পাতলা হয়ে যায়। ফলে এগুলো টানটান অবস্থায় থাকে। এই অবস্থায় লিগামেন্টে কোনোভাবে চাপ পড়লে কোমরে ব্যথা হয়।

• গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়ের বসা ও শোয়ার ভঙ্গির কারণেও কোমর ব্যথা হয়ে থাকে।

• এছাড়াও মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা হতে থেকেও কোমর ব্যথা হয়।
গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার ঝুঁকি কাদের বেশি

• বেশি বয়সে গর্ভধারণ করলে

• যাদের মাসিক হলে কোমর ব্যথা হয়

• গর্ভধারণের আগেই যাদের কোমর ব্যথা থাকে

• আগে কোনো দুর্ঘটনা থাকলে

• আগের বারের গর্ভধারণে যদি কোমর ব্যথা হয়ে থাকে

• ওজন অতিরিক্ত হলে

• গর্ভবতী মা আগে ধূমপায়ী হলে

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার উপসর্গ

গর্ভাবস্থার যেকোনো সময় কোমর ব্যথার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ব্যথা কখনও ভোতা আবার কখনও তীব্র, আবার কখনও জ্বালাপোড়ার মত হয়ে থাকে। এই ব্যথা ডানে বা বামে যেকোনো এক পাশে এবং মাঝ কোমরে বা শ্রোণিচক্রের প্রান্তে হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে কোমর ব্যথা উরু ও পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। আবার অনেকের শ্রোণিচক্রের প্রান্তে বা ভিতরের দিক থেকেও দু’পাশে ব্যথা হয়। আড়ম্বরপূর্ণ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ডিজাইন আবিষ্কার করুন fakewatch.is কোপেনহেগেনের আধুনিক আসবাবপত্রের দোকানে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

যদি গর্ভাবস্থায় আপনার কোমর ব্যথা ২ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে তাহলে ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে যোগাযোগ করুন। প্রস্রাবে ইনফেকশন অথবা অকাল গর্ভপাতের লক্ষণ হিসাবেও অনেক সময় কোমর ব্যথা হয়। যদি কোমর ব্যথার সাথে যোনী পথে রক্তপাত হয়, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, জ্বর ইত্যাদি থাকে তাহলে অতিসত্বর হাসপাতালে যাবেন। এছাড়াও কোনো কারণ ছাড়া নিয়মিত ডাক্তারের কাছে ফলোআপ করাতে যাবেন।

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা নির্ণয়

সাধারণত গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার কারণ নির্ণয়ে প্রসূতি মায়ের মুখের বর্ণনাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে এমআরআই করার প্রয়োজন হলে তা করানো হয়। কিন্তু কোনো এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান করা হয় না। কারণ গর্ভাবস্থায় যেকোনো ধরণের রেডিয়েশন থেকে দূরে থাকতে হয়।

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার চিকিৎসা

কোমার ব্যথা যদি অন্য কোনো সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট না হয় তাহলে চিকিৎসকরা অ্যাসিটামিনোফেন জাতীয় ওষুধ দিয়ে থাকেন। অ্যাসিটামিনোফেন গর্ভাবস্থায় নিরাপদ একটি ওষুধ। তবে আরও ভালো চিকিৎসার জন্য তারা গর্ভবতী মাকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের কাছে পাঠিয়ে থাকেন। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক গর্ভাবস্থার সময়কাল এবং কোমর ব্যথার কারণ ও প্রকরণ নির্ণয় করার পর চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন। গর্ভবতী মাকে পরামর্শ, ম্যানুয়াল থেরাপি, অ্যাকটিভ এক্সারসাইজ, অ্যারোবিক এক্সারসাইজ ও স্ট্রেচিংয়ের সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা করা হয়।

জরুরি পরামর্শ

গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস পার হয়ে যাওয়ার পরে তীব্র কোমর ব্যথা অকাল গর্ভপাতের লক্ষণ হতে পারে। তাই দেরি না করে দ্রুত ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রিয় পাঠক, আশা করি এই লেখার মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিতে পেরেছি। গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথাসহ যেকোনো ব্যথা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে কল করুন আমার হেল্প লাইনে অথবা মেসেজ ইনবক্সে। ধন্যবাদ শেষ পর্যন্ত লেখাটি পড়ার জন্য। আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

article-footer

Leave a Reply